• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ভদ্র সাজার দিন শেষ, ইরানকে হুমকি দিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা হজ ফরজ হওয়ার পর মাহরাম না থাকলে নারীদের করণীয় কী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যতদিন জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া আইসিসি থেকে এবার বড় সুখবর পেলেন বাংলাদেশের ৩ পেসার বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয়? প্রশ্ন জামায়াত নেতা আজহারের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য রক্ত দিয়ে গেছে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন পাঁচ গ্রামের মানুষ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান সরকার পতনের হুমকি দিলে রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে : ইশরাক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যতদিন জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া

মাসুম খান / ৪ Time View
সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, আগামী তিন বছর কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া, ফলে এই সময়ের মধ্যে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না।

তবে পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি দুই বছর পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে মোট অর্থের ৯০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

দেশের সবচেয়ে বড় একক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় সুবিধা এর উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা। যেখানে ১,০০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লার প্রয়োজন হয়, সেখানে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক কেন্দ্রে লাগে মাত্র প্রায় ২৭ টন ইউরেনিয়াম। একইভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এ কেন্দ্র বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এতে বহুস্তরবিশিষ্ট স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।

প্রায় ৬০ বছরের আয়ুষ্কাল নির্ধারিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও দীর্ঘ সময় চালু রাখা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাড়ে চার গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে পারে। এক কেজি পারমাণবিক জ্বালানি প্রায় ৬০ টন তেল ও ১০০ টন কয়লার সমান শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

যদিও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় নিরাপত্তা বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। জ্বালানি পেলেট বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের আবরণ দিয়ে তা সুরক্ষিত করা হয়।

উল্লেখ্য, রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশে পরিণত হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক।


More News Of This Category