পরিবারকে একটি উন্নত জীবন দেওয়ার তাগিদে ভালো জীবিকার খোঁজে কুয়েতে যাওয়া এক প্রবাসীর স্বপ্নভঙ্গ হলো দেশে ফেরার পথেই।
গতবছর আগস্টে জীবিকার সন্ধানে সংসারের উন্নতির জন্য পশ্চিম এশিয়ার পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত আরব দেশ কুয়েতে যান নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫)। বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে সে দেশের পুলিশ তাকে আটক করে জেলে পাঠায়। দীর্ঘ ১৫ দিন কারাভোগের পর গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাকে বাংলাদেশগামী একটি বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
শনিবার আনুমানিক দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর হঠাৎ তার বুকে ব্যথা শুরু হয়। বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
হত নুরুল ইসলাম সাগর ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রীর নাম বিবি খাদিজা। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার— বড় মেয়ে নুসাইবা ইসলাম এবং নয় মাস বয়সী ছেলে তানজিম রিহান।
নিহতের ছোট বোন শেফালী আক্তার আরজু বলেন, তার ভাই মানসিক দুশ্চিন্তা থেকেই হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তিনি বলেন, বাড়িতে আসলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি চাপে ছিলেন। “আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল, তার শরীরে কোনো রোগ ছিল না। মানসিক দুশ্চিন্তাই তার হার্ট অ্যাটাকের কারণ,”— যোগ করেন তিনি।
নিহতের পিতা মো. শাহজাহান জানান, রাত দুইটার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে তার ছেলে ঢাকার বিমানবন্দরে মারা গেছেন বলে খবর দেয়। পরে তিনি দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
প্রতিবেশী জামসেদুল আলম জানান, সাগর গত বছরের আগস্টে কর্মসংস্থানের সন্ধানে ফ্রি ভিসায় কুয়েত গিয়েছিলেন। সেখানে পুলিশের হাতে আটক হয়ে ১৫ দিন জেল খাটার পর তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সাগর স্থানীয় চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। দেশে ফিরে হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকেও তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কুয়েত থেকে আসা একটি বিমানে ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরের ভেতরেই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী বিষয়টি পরশুরাম থানাকে জানানো হলে পুলিশ রাতেই পরিবারকে খবর দেয়।