জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগায়, তারা মূলত মহান আল্লাহর সঙ্গে বেঈমানি করে।
শনিবার (০৯ মে) গোসাইরহাট উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ হিসেবে বকনা বাছুর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তারা মুনাফেকির পথ অনুসরণ করে। মুখে ধর্মের কথা বললেই কেউ সত্যিকার অর্থে ধর্মপরায়ণ হয়ে যায় না; একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় তার কর্ম, সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে।
হুইপ অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন অত্যন্ত মানবিক নেতা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি এমন একজন সরকারপ্রধান, যিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ সরকার গঠনের পরপরই শুরু করেছেন। মাত্র এক মাসের মধ্যেই তার নেওয়া নানা উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, পৃথিবীর খুব কম সরকারপ্রধানই এত দ্রুত নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের জেলেরা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ আহরণ করতে পারেন। কিন্তু প্রজনন মৌসুম ও সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বছরের উল্লেখযোগ্য সময় তাদের কর্মসংস্থান সীমিত হয়ে যায়। ফলে অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক প্রধানমন্ত্রী জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভিজিএফসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে নিষিদ্ধ মৌসুমে তাদের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, সরকার শুধু জেলেদের নয়, প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক, মৎস্যজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মিস তাহসিনা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক এবং সংরক্ষিত মহিলা ৩৩ আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিবন্ধিত ৬০ জন জেলের মাঝে বকনা বাছুর ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।