• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গণঅভ্যুত্থানে কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করেনি গুলি খাওয়া ব্যক্তি কোন ধর্মের: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে চাপে রাখতে ‘আলোচনা দীর্ঘ করছে ইরান’ হরমুজ প্রণালিতে ‘নাৎসি কৌশল’ ব্যবহার করছে ইরান: রুবিও বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম মন্ত্রিসভার যে কাউকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ইশরাকের অভিযানের পরদিনই ফের জমজমাট ‘সেই মাদক স্পট’ দোষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, ইশরাক ভাই ফাঁদে পড়ে গেলেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ নিতে বাধা নেই: আইনমন্ত্রী আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অনিয়ম করলে ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে চাপে রাখতে ‘আলোচনা দীর্ঘ করছে ইরান’

মাসুম খান / ৯ Time View
সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা দীর্ঘ করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অচলাবস্থা ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও হামলা চালাতে পারে। এ কারণে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বদলে সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। ইরানের নেতৃত্ব ট্রাম্পকে রাজনৈতিক সাফল্য দিতে চায় না বলেও জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। জনমত জরিপে এর প্রভাব পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের বিশ্লেষক সাঈদ লেইলাজের মতে, আলোচনা দীর্ঘ করে ইরান কোনো বেআইনি পদক্ষেপ ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে।

তবে দুই দেশের আলোচনায় বড় বাধা হয়ে আছে শর্ত নিয়ে মতবিরোধ। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে তাদের সাত দিনের পরিকল্পনার শর্ত পূরণ করতে হবে।

কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে এর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখতে চায় তারা। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল, জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রস্তাবটি এখনো বহাল আছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের বার্তা বিনিময় চলছে।

এর আগে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলেও তা টেকসই হবে কি না, সে বিষয়ে তাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়ছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুনর্বহালের পর ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরও প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।

ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কার মতে, ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় ইরানের নেতৃত্ব। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হওয়ায় যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া এখন আর সহজ নয়।


More News Of This Category