জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, সেটা একটা ম্যাসেজ। সংস্কার না হলে আমাদের পরিণতিও নুরের মতো হবে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ছতরপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত ‘উঠানে নতুন সংবিধান’ শীর্ষক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণপরিষদ নির্বাচন, নতুন সংবিধান, বিচার ও সংস্কারের দাবিতে এনসিপির বিজয়নগর উপজেলা কমিটি এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করে।
এ সময় তিনি বলেন, তারেক জিয়াকে আমরা দেখেছি মুচলেকা দিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তাকে নৃশংসভাবে মেরে মাজা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়ার যে পরিণতি হয়েছিল আমাদের জন্যও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে, যদি আমরা এই নিয়ম পরিবর্তন করতে না পারি। নিয়ম পরিবর্তনের জন্য যেটার নাম আমরা দিয়েছি সংস্কার। এটার জন্য সবাইকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ২৪ পরবর্তী সময়ে আমরা আর কোনো সহিংসতার দিকে ফিরে যেতে চাই না। কারণ সহিংসতা হচ্ছে গণতন্ত্রের শত্রু। তাই আওয়ামী তরিকা রাজনীতি বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সৌহাদ্যপূর্ণভাবে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদেরকে এখন বলা হয় নির্বাচন বিরোধী। বিএনপি নির্বাচনের জন্য কথা বলছে। আমরা নির্বাচনসহ আরও দুটি বিষয়ের জন্য কথা বলছি। আমরা বলছি, আমাদের নির্বাচনও লাগবে আবার বিচার ও সংস্কারও লাগবে। এই যে পুলিশ আমাদেরকে বিনা বিচারে, বিনা মামলায় ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাবে না- এটার ফয়সালা কি হয়েছে? নেওয়ার পরে যে আমাদের পরিবারকে অবগত করবে- এটার ফয়সালা কি হয়েছে? হয়নি তো! আমরা দেখি একজন মাইক দিয়ে বলে যদি ধানের শীষ না থাকে প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই ব্যালট পেপার ছাপাব। আমি বলছি না, এটা একটা রাজনৈতিক দলের অবস্থান। আমি বলছি, অনেক রাজনৈতিক দলের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টা হচ্ছে এমন। এটা সবাই যে ধারণ করে আমরা বিশ্বাস করতে চাই না।
এ ছাড়া তিনি এনসিপি যেন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে সেজন্য সবার কাছে দোয়া চান।
বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ ও ডা. মাহমুদা মিতা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ এবং বিজয়নগর উপজেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।