• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

মিলেমিশে দুর্নীতি, কাজ শেষ না করে তুলে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা

মাসুম খান / ২১৪ Time View
সময় : শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

গত দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে খুলনার অতি গুরুত্বপূর্ণ শিপইয়ার্ডের সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ। এরই মধ্যে এক বছরের কাজ সাড়ে তিন বছরেও শেষ করতে না পারায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চুক্তি বাতিলের পর জব্দ করা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের সাত কোটি টাকা।

তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে এসে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ৬০ কোটি টাকা দাবি করেছে মাহাবুব ব্রাদার্স নামে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আওয়ামীপন্থি প্রভাবশালী এ ঠিকাদারের পক্ষে এখন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) কার্যালয়ে সশরীরে গিয়ে নিয়মিত তদবির করছেন খুলনা একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা।

ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে সহস্রাধিক ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ও বেসরকারিভাবে অতিগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। এ নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)সহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের অব্যাহত আন্দোলনেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনার আলোচিত এ সড়কটিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা অফিস। খুলনা অফিসের উপপরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে সড়কটির রূপসা সেতু এলাকায় ৩০০ মিটার এলাকা পরীক্ষা করা হয়। থার্ডপার্টি (নিরপেক্ষ) প্রকৌশলীর মাধ্যমে চালানো ওই পরীক্ষায় মেজারমেন্ট বুকে থাকা কাজ শেষ হওয়া অংশের মধ্যে সরেজমিন ব্যাপক অনিয়ম খুজে পেয়েছে দুদক।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনের দাবি, ওই সড়কের ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এটা আন্ডার কনস্ট্রাকশন কাজ। মেজারমেন্ট বুকে আছে যে কাজ সে কাজ হয়েছে আমরা তথ্য প্রমাণ সহকারে জমা দেব। সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের সামনের তিন কিলোমিটার ঠিক আছে কিন্তু বৃহস্পতিবার যখন পরীক্ষা করা হয়েছে তখন বর্ষার কারণে কাজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সামনে ঠিক আছে।

দুদক বলেছে কেডিএ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এমন হয়েছে এ বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, তারা কী বলেছে জানি না। এটি একটি চলমান কাজ, যা এখনও শেষ হয়নি। যেখানে কাজ বাকি আছে সেখানে তা করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকঠাকভাবে কাজ না করায় আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছি। নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত একটি সমাধান হবে।

এসব অভিযোগ নিয়ে মাহাবুব ব্রাদার্সের পক্ষে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। এমনকি খুলনার দৌলতপুরে তাদের অফিসও তালাবদ্ধ।


More News Of This Category