রাজশাহীর দুর্গাপুরে চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। এসময় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হলে মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
রোববার (১৭ মে) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর গত শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে হুমায়রার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আজ রোববার দুপুরে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছিল। আসরের নামাজের পর জানাজা হওয়ার কথা ছিল।তবে বিকেল ৩টার দিকে হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে ছিল—‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই’ এবং ‘খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে’, ‘খুনির ফাঁসি চাই
একপর্যায়ে পুলিশ অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে যেতে বললে উত্তেজনা বাড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হুমায়রা। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন রাতভর আশপাশের এলাকা, পুকুর ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে হুমায়রার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত নিজের ফেসবুক আইডিতে মেয়ের সন্ধানদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে বাড়ির পাশের একটি খেজুরগাছের নিচে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে। হুমায়রার বাবা হাসিবুল ইসলাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মরদেহ দাফনের কার্যক্রম চলছে।