পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষ ইটিসি লেন ব্যবহার করে পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পেরেছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রাকে অধিকতর নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যানজটমুক্ত করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের নেতৃত্ব এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে এ যাত্রা সহজ হয়েছে।
গত ২২-৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনে পদ্মা সেতুতে ইটিসি লেন ব্যবহার করে ৪,২৪২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫০ টাকা। বর্তমানে এই সেতুতে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা ৮৭০টি। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুতে ইটিসি ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এ যাবতকাল পর্যন্ত মোট ৩৮,৯৪০টি যানবাহন এই সুবিধা গ্রহণ করেছে এবং মোট ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
একই সময়ে (২২-৩১ মে) যমুনা সেতুতে ইটিসি লেন দিয়ে ৪,৮২৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৬২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। এই সেতুতে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা ৬,৭৭৪টি। ইটিসি লেন চালুর পর থেকে যমুনা সেতুতে এযাবৎকাল পর্যন্ত ৪,২২,৪৭৯টি যানবাহন ইটিসি লেন ব্যবহার করেছে এবং মোট ৫৫ কোটি ৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
ঈদের মৌসুমে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সেতু কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। ইটিসি লেন চালুর পর থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৩৮,৯৪০টি এবং যমুনা সেতু দিয়ে ৪,২২,৪৭৯টি যানবাহন ইটিসি লেন ব্যবহার করেছে, যা থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে। ইটিসি লেনের মাধ্যমে যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় না থেমে ঘণ্টায় ৬০ কিমি গতিতে চলাচল করতে পারছে, যা আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনায় এক মাইলফলক।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব টোল সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল এবং অন্যান্য স্থাপনায় বিদ্যমান ইটিসি সিস্টেমগুলোকে একক, অভিন্ন ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সচিব, সেতু বিভাগকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কতিপয় সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভারে ইটিসি ব্যবস্থা চালু থাকলেও এগুলো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ। এসব টোলপ্লাজায় ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার যেমন ভিন্ন, তেমনি টোল পরিশোধের মাধ্যমেও ভিন্নতা রয়েছে। ভিন্নতার কারণে ব্যবহারকারী জনসাধারণকে বিভিন্ন স্থাপনা অতিক্রমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে। এতে ব্যবহারকারী জনসাধারণ ইটিসি ব্যবস্থার স্বাচ্ছন্দ্য ও কাঙ্ক্ষিত সুফল হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিচ্ছিন্ন এই ইটিসি ব্যবস্থাগুলো একক, অভিন্ন ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তদারকিতে দ্রুততম সময়ে জনসাধারণকে একটি ব্যবহারবান্ধব ইটিসি সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়।