প্রেস রিলিজ।
টাঙ্গাইল সদর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হয়রানি, অর্থ দাবি ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগ
“আমার স্বামী নির্দোষ হলে তাঁকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা কেন—নিরপেক্ষ তদন্ত চাই”
রোজ রবিবার ২০/০৯/২০২৬ দুপুর ৩ ঘটিকায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রানু বেগম সংবাদ সম্মেলনে বলেন
আমি রানু বেগম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অত্যন্ত অসহায় ও নিরুপায় হয়ে আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কথা বলতে আসিনি। আমি এসেছি ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি নিয়ে।
আমার স্বামী মো. বাবলু খান একজন সাধারণ মুদি দোকানদার। তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন—এটাই আমাদের পরিবারের বক্তব্য। কিন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমাদের এলাকায় এসে এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।

আমার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতে টাঙ্গাইল সদর থানার সেকেন্ড অফিসার ভিক্টর ব্যানার্জীর নির্দেশে এসআই মো. রাফিউল করিম, এসআই মো. আমান উল্লাহ এবং এএসআই বিপুলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য কান্দাপাড়ায় আমাদের বাসার মালিকের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে আমরা প্রায় ১৪ জন ভাড়াটিয়া বসবাস করি এবং সেখানে একটি মাত্র বাথরুম রয়েছে।
আমার অভিযোগ—পুলিশ সদস্যদের একজন বাথরুমে গিয়ে সেখানে অনেক ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। অথচ আমার স্বামীর কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়নি। পরে তাঁকে বাইরে থেকে ডেকে এনে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপরই শুরু হয় আমাদের ওপর ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি।
আমার অভিযোগ, আমার স্বামীর কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ৫০০ পিস ইয়াবার মামলা সাজিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

আমি আজ সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি প্রশ্ন রাখতে চাই—
একজন সাধারণ মুদি দোকানদারের কাছে যদি মাদক পাওয়া না যায়, তাহলে তাঁকে কেন থানায় নিয়ে যাওয়া হলো?
তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মাদক উদ্ধার বা জব্দের বৈধ প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক।
আর যদি মাদক না পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি কেন দেওয়া হলো—এর তদন্ত হোক।
আমার আরও অভিযোগ রয়েছে, আমাদের এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়মের কথা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আমি আমার লিখিত অভিযোগে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উল্লেখ করেছি।
আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই—আমি এসব অভিযোগের বিচার নিজে করতে চাই না। আমি শুধু চাই, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা তদন্ত করে সত্যটা বের করে আনুক।
যদি আমার অভিযোগ মিথ্যা হয়, তদন্তে তা প্রমাণিত হোক।
আর যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তারও বিচার হতে হবে।
কারণ আইন সবার জন্য সমান।
আমার অভিযোগে এলাকার কয়েকজন কথিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারির নামও উল্লেখ করেছি। তবে আমি স্পষ্ট করতে চাই, কোনো ব্যক্তিকে আদালতের রায় ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি—নামগুলো তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।
আমার প্রশ্ন—তদন্ত হবে কি?
আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা রেঞ্জ ও তদন্তকারী সংস্থার কাছে কয়েকটি দাবি জানাচ্ছি।
প্রথমত, ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধার বা মামলা সংক্রান্ত সব নথি যাচাই করতে হবে।
তৃতীয়ত, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, থানার জিডি, ডিউটি রোস্টার, আটক ও জব্দ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে হবে।
চতুর্থত, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাড়ির মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
পঞ্চমত, আমার স্বামীর কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি এবং ৫০০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা সাজানোর কথিত হুমকির বিষয়টি তদন্ত করতে হবে।
ষষ্ঠত, যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের সম্পদ, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড প্রয়োজন হলে আইনানুগভাবে যাচাই করতে হবে।
সপ্তমত, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অষ্টমত, অভিযোগ করার কারণে আমি ও আমার পরিবার যাতে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হই, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রতি আমার অনুরোধ
আজ আমি গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে একটি কথাই বলতে চাই—
একজন সাধারণ মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তার কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়।
আমরা পুলিশকে শত্রু মনে করি না। বরং পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কিন্তু কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই অভিযোগ তদন্তের সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে।
আমার স্বামী যদি সত্যিই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হোক।
কিন্তু তিনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে তাঁকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর কোনো চেষ্টা হয়ে থাকলে তারও বিচার হতে হবে।
আমি আজ কারও শাস্তি নিজে দাবি করছি না। আমি দাবি করছি—নিরপেক্ষ তদন্ত।
আমি বিশ্বাস করি, তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।
আমাদের শেষ কথা
আমি একজন সাধারণ নারী। আমার হাতে ক্ষমতা নেই, অর্থ নেই, বড় কোনো পরিচয় নেই। আমার একমাত্র ভরসা আইন, প্রশাসন এবং দেশের স্বাধীন গণমাধ্যম।
তাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক ভাই-বোনদের কাছে আমার অনুরোধ—আমার অভিযোগটি আপনারা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রকাশ করুন।
আমি চাই না, আমার মতো আর কোনো সাধারণ পরিবার শুধু প্রভাবশালী কারও সঙ্গে বিরোধ বা অভিযোগের কারণে হয়রানির শিকার হোক।
আমার স্বামী নির্দোষ হলে তাঁকে ন্যায়বিচার দিন।
অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তে সত্য প্রকাশ করুন।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন।
এইটুকুই আমার দাবি।
আমি ন্যায়বিচার চাই।
আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।
ধন্যবাদ।
রানু বেগম
অভিযোগকারী
কান্দাপাড়া, টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল