দেশের টেক্সটাইল শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চীনের কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বস্ত্র অধিদপ্তর। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা দেশে আসবেন। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আয়োজিত এক সেমিনার ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সচিব ড. মো. আব্দুস সবুর। কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছোলাইমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
ড. আব্দুস সবুর বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত। এ খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই দেশের টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে বস্ত্র অধিদপ্তর।’
তিনি জানান, দেশের চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের মানোন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৪১টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ১০টি নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার সুযোগ বাড়বে।
শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শতভাগ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শামসুদ্দিন টাওয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া ক্লিফটন গ্রুপের পরিচালক ও সিইও মো. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের সিওও মাহবুবুল আলম, বস্ত্র অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিচালক (উপসচিব) মো. আ. কুদদূসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সঙ্গে কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথও সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।