জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পর রংপুর নগরীর বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে ভিড় করেছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকেরা। রোববার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এ সময় সিরিয়াল নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হট্টগোলও হয়। কিছু পেট্রোল পাম্প এ সময় বন্ধ পাওয়া যায়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের রোববারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ছে। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা ও পেট্রল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে।
রংপুর নগরীর সিটি ফিলিং স্টেশন, মিজান ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স চাঁদ পেট্রোলিয়ামসহ বিভিন্ন পাম্পে রাতেই গাড়ি নিয়ে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার ইউনিক ফিলিং স্টেশন ও রহমান ফিলিং স্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। এসব পাম্পের সামনে তেল নিতে আসা ক্রেতাদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
ব্যাংকের মোড় এলাকার সিটি ফিলিং স্টেশনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পাম্পের সামনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলগুলোর পেছন থেকে চালকেরা বারবার হর্ন দিচ্ছিলেন। অনেক ক্রেতাই ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিতে চাইছিলেন। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নগরীর অন্যান্য তেল পাম্পগুলোতেও একই পরিস্থিতি দেখে গেছে।
সিটি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী হযরত আলী বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ করে মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে অনেকে তেল নিতে আসতে শুরু করেন। পরে তারা তেলের দাম বাড়ার খবর জানতে পারেন।
হযরত আলী বলেন, ‘বেশির ভাগ মোটরসাইকেলচালক ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিতে চাইছেন। কেউ ১ হাজার টাকার কমের তেল নিতে চাইছেন না। এ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হট্টগোলও হচ্ছে।’
তেল নিতে আসা মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, প্রতি লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে। ঠেলাঠেলির মধ্যে তিনি ৫০০ টাকার তেল নিতে পেরেছেন বলে জানান।
আরেক ক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে তেলের দাম বাড়ার খবর দেখে তিনি গাড়ি নিয়ে তেল নিতে বের হন। কয়েকটি পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখার পর সিটি ফিলিং স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
তবে বিভিন্ন পাম্পের কর্তৃপক্ষ জানান, তেলের দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই হঠাৎ করে ভিড় বেড়ে যায়। অনেক ক্রেতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে তেল কিনছেন।