দুদকের নথি অনুযায়ী, ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং ঋণের যথাযথ ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও আইএফআইসি ব্যাংকের সিআরএম পলিসি-২০১৭-এর বিধান অনুসরণ করা হয়নি।
পর্যাপ্ত জামানত না থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গোডাউন পরিদর্শন, উদ্যোক্তা পরিচালকদের কেওয়াইসি ও পরিচয় যাচাই, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, মূলধন, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ ও দায়, অডিটেড ব্যালান্সশিট, আয়কর পরিশোধ, ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং পূর্বের ঋণের ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ৯০ কোটি টাকা ওডি ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি ওই ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৫ জুন ৬৫০ শতাংশ জমি বন্ধক গ্রহণের প্রস্তাব থাকলেও বন্ধক সম্পাদন না করেই ঋণের সীমা ১৪৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দফায় অনুমোদিত ৫৪৫ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে মোট ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদে ও বিভিন্নভাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিতরণ ও উত্তোলন করা হয়। ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না করে এবং অর্থ পরিশোধ না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ঋণ বিতরণের পর বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক কর্তৃক ঋণ সুবিধা বা বর্ধিত ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে জমা করা ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ টাকা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ টাকা ৩ পয়সাসহ ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই ভিত্তিক ওডি ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সা। নথিতে এটিকে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃতি, উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে উত্তোলন করে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে। রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।
মামলার সুপারিশ করা ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন সালমান ফজলুর রহমান, আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মনজুর ও পরিচালক ইশরাত জাহান। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাস, শাহ মনজুরুল হক, এ আর এম নজমুস ছাকিব, কামরুন নাহার আহমেদ, মো. গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল ও রাবেয়া জামালীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া তৎকালীন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম সারোয়ার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নুরুল হাসনাত ও মনিতুর রহমান, হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন, হেড অব ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সৈয়দ হাসানুজ্জামান, সাবেক হেড অব অপারেশন হেলাল আহমেদ, সাবেক ডিএমডি ইকবাল পারভেজ চৌধুরী, শাহ মো. মঈনউদ্দিন, তৎকালীন চিফ ম্যানেজার হোসাইন শাহ আলী, মো. জুলফিকার আলী চাকদার, রিলেশনশিপ ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং সালমান মাহবুবের নামও রয়েছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা রুজুর সুপারিশ করা হয়েছে।