• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বিএনপি নেতার ভয়ে ঘরছাড়া কৃষক পরিবার

মাসুম খান / ৩৩৪ Time View
সময় : শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মতিন বকসের ভয়ে তিন মাস ধরে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে দিনযাপন করছেন এক কৃষক পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, মতিন বকসের নির্দেশে ওই কৃষক পরিবারের ওপর হামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার মডেল থানায় বিএনপি নেতা মতিন বখসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কৃষক আব্দুল মকিছ। একই ঘটনায় আদালতেও মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলার আসামিরা হলেন আব্দুল মকিছের ভাই আব্দুল শহীদ, আব্দুল মতিন, তাদের স্ত্রী মিলি বেগম, পারভিন বেগম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব মাতারকাপন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল আব্দুল মকিছের। সেই সূত্র ধরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বাজারে থাকার সুবাদে আসামিরা মকিছের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারকে পূর্ব পরিকল্লিতভাবে বসতঘরে প্রবেশ করে আক্রমণ করে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তার স্ত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরদিন সন্ধ্যায় আসামিরা আবার বাড়িতে গিয়ে পুনরায় আব্দুল মকিছের স্ত্রীকে ছুরি ও লোহার পাইপ দিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। ঘটনার খবর পেয়ে আব্দুল মকিছ বাড়িতে এসে স্ত্রীকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

মৌলভীবাজার মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মকিছের ভাইদের পক্ষ নিয়ে মতিন বকস জমি দখলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। স্থানীয় লোকজনদেরকে জানালে মতিন বখস তার লোকজন দিয়ে মকিছ ও তার পরিবারের লোকজনদেরকে মারধর করে। স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়।

কৃষকের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার বলেন, মতিন বখস যা বলবে সেটাই মানতে হবে না হলে যেখানে পাবে সেখানে মারবে, এরকম আতঙ্কে আছি আমরা। পরিবারের যাকে পাবে তাকে মারবে। তার হুকুমে আমার দেবর ও ভাসুররা মাথায় আঘাত করে আমাকে আহত করেছে। আমাদের কোন মুরব্বিদের বিচার মতিন বকস মানতে চায় না। তার যে বিচার সেটা সে জুড়ে প্রয়োগ করতে চায়।

বিএনপি নেতা মতিন বখস বলেন, তারা অনেকদিন ধরে ভাইদের মধ্যে মারামারি হচ্ছে। কোনদিন কাকে মেরেছে আমি জানি না। তাদের ভাইদের সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে সে। এটা বিচার হয়েছে। আমি এসব বিষয় জানি না, শুধু জানি মামলা করেছে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। একই ঘটনায় একাধিক মামলা নেওয়ার বিধান নেই। ঘটনা তো একই। সন্ধ্যার পর অভিযোগকারী থানায় এসে অভিযোগ দিয়ে গেছে। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। যদি কোনো আসামি কোর্টের মামলায় বাদ দিয়ে থাকে, সেটা তদন্তকালীন সময়ে বললে অন্তর্ভুক্ত হবে। আদালতে দায়ের করা মামলা ও থানার অভিযোগ এক সঙ্গে তদন্ত হবে।


More News Of This Category