২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান। একই সঙ্গে তিনি শাপলা ট্র্যাজেডি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করেন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তার অভিযোগ, জঙ্গিবাদের অভিযোগকে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রেখেছিল।তিনি বলেন, শাপলা ট্র্যাজেডি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু তাদের সেই অবদান এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি। তাই তাদের আত্মত্যাগ ও অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে আলেম সমাজের পাশে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি কিছু রাজনৈতিক দলও শেষ পর্যন্ত তাদের পাশে ছিল না। এরপর সরকারবিরোধী সব কণ্ঠ দমন করা হয়, যা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পথকে আরও সুগম করে।
তিনি বলেন, ৫ মের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে কেঁদেছে, মা-বোনেরা ঘরে বসে দোয়া করেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের বীভৎসতার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ফ্যাসিবাদকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।
মঞ্জু আরও বলেন, যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে বা পালিয়ে যায়; কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মারা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের পর যেমন পরাজিত শক্তির সহযোগীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়েছিল, তেমনি ফ্যাসিবাদ পতনের পরও তাদের কিছু সহযোগী দেশে থেকে বিভিন্নভাবে নিজেদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামারাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ, মো. আলিফসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলুসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।