ম্যাচের ৭৬ মিনিটেও ১-০ গোলে পিছিয়ে ফ্রান্স। ১১ বছর পর বেলজিয়ামের কাছে হারের শঙ্কায় যখন জিনেদিন জিদানের কপালে চিন্তার ভাঁজ, তখনই বদলে গেল সব হিসাব।
ম্যাচের শেষ দিকে ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ৪ গোলের ঝড়ে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল ফরাসিরা। এর মাধ্যমে ঘরের মাঠে কোচ হিসেবে জয়ের খাতা খুললেন জিনেদিন জিদান। এ ছাড়া উয়েফা নেশনস লিগে কোচ জিদানের অপরাজিত যাত্রাও ধরে রাখল ফরাসিরা।
ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের নায়ক মাইকেল ওলিসে। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে শেষ দিকে দুটি গোল করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার, করিয়েছেনও একটি। এ ছাড়া দেজিরে দুয়ে ও রায়ান চেরকিও করেছেন একটি করে গোল, তারা দুজনও নেমেছিলেন বদলি হিসেবেই।
ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ও আক্রমণে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও প্রথম গোলটি পায় বেলজিয়াম। রোমিও লাভিয়ার প্রায় ৬০ গজের অসাধারণ থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন দদি লুকবাকিও। এরপর ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক হওয়া গোলরক্ষক গিয়োম রেস্তেকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।
গোল হজম করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিলো ফ্রান্সের কাছেই, তবে কোনোভাবেই গোল পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ৭৭তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দেজিরে দুয়ের শট জালে জড়ালে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
এরপর মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে ওলিসের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে রায়ান চেরকি ফ্রান্সকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন। পর্ব ৮৮ ও যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দেজিরে দুয়ের পাস থেকে পরপর দুটি গোল করেন মাইকেল ওলিসে।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
জাতীয় দলের হয়ে ২০২৬ সালটা দারুণ কাটছে ওলিসের। এ বছর ফ্রান্সের হয়ে ১৬ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সরাসরি ১৭ গোলে অবদান রেখেছেন তিনি।
এই জয়ে নেশনস লিগের গ্রুপ এ১-এর শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল ফ্রান্স। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১০। অন্যদিকে এই হারের পর ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বেলজিয়াম।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইতালি। ইতালির হয়ে গোল করেছেন জিয়ানলুকা স্কামাক্কা, রিকার্দো কালাফিওরি ও পিও এসপোসিতো। তুরস্কের হয়ে একটি গোল করেন আরাল সিমশির।