• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গু নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান চসিক মেয়রের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি মারা গেছেন ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ইয়ানডেক্সের ডেটা সেন্টার অচল ভবিষ্যতে বিমানবহরে ২ শতাধিক বিমান থাকবে: মন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ আসছে দেশে, বেনাপোলে নিরাপত্তা জোরদার তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা হলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভাগীয় প্রধান ট্রাম্পের পরা ভাইরাল স্যুট নারায়ণগঞ্জে তৈরি, দাবি পোশাক কারখানার এমডির তৃতীয় টি-টোয়েন্টির আগে সামাজিকমাধ্যমে হোপ-গিলের বাগ্‌যুদ্ধ ঢাকাকে বাঁচাতে দরকার সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা: ওমর সাদাত

ডেঙ্গু নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান চসিক মেয়রের

মাসুম খান / ১০ Time View
সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

ডেঙ্গু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদ করার চেয়ে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি ও নির্ভুল তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা জরুরি। একই সঙ্গে যার যে এলাকায় দায়িত্ব, সেখানে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মশারি টাঙিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকজন নারীর প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, ‘আমি মশারি টাঙিয়ে হয়তোবা সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারব। কিন্তু আপনি আপনি মশারি টাঙিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে বসে মিথ্যা তথ্য দিতে থাকেন, তখন কিন্তু চিকিৎসা অথবা যারা অথোরাইজড পারসন আছে, তারা কিন্তু মেয়রের ওপর সব বন্দুক মারতে থাকে। কাজের কাজ কিছু হয় না, সেটাই আমি বলছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে মশারি টাঙিয়ে এগুলো করছে, তারা কেন শুধু তাদের চেহারা দেখানোর জন্য এগুলো করছে? নাকি সঠিক তথ্য তাদের দরকার? তাদের আমি বলব, চেহারা না দেখিয়ে তারা সঠিক তথ্য জাতির কাছে তুলে ধরুক। তাহলেই সঠিক চিকিৎসা সম্ভব এবং ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা করতে হলে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধু আক্রান্তের সংখ্যা বা মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করা ঠিক নয়।

চট্টগ্রাম নগরী ও ঢাকার ডেঙ্গু পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দুই নগরীর মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। এ ধরনের তুলনামূলক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে পরিস্থিতি বোঝা এবং কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব এলাকার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ না করে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

তিনি বলেন, ‘এই যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আজকে বিভ্রান্তি করার কারণে যারা দায়িত্বশীল আছেন, তারা কিন্তু দায়মুক্তির দিকে চলে যাচ্ছে। আজ যদি সঠিকভাবে এই কথাগুলো বলতে পারত, তাহলে যাদের দায়িত্ব আছে তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করত। কিন্তু তারা সেখানে দায়িত্ব পালন না করে সিটির মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘এই যে আপনার দায়মুক্তির কালচার, এই কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেখবেন আপনার ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমবে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এ ধরনের জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, টব, পরিত্যক্ত বোতল, টায়ার ও ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘যেখানে যেখানে পানি জমা থাকে, সেই পানিগুলোকে আমাদেরকে ক্লিন করতে হবে। অথবা তিনদিনের অতিরিক্ত পানি জমা রাখা যাবে না।’

পানি জমে থাকার সুযোগ বন্ধ করা গেলে এডিস মশার প্রজনন কমানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রমের বিষয়ে মেয়র বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি ও মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া আল আজিজ, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব অধ্যাপক বালায়ত হোসেন ঢালি এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ফিল্ড অফিসের প্রধান মাধুরী ব্যানার্জী।

আলোচনায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।


More News Of This Category